বৈজ্ঞানিক নাম (AZADIRACHTA INDICA)
১০ বছর। নিম গাছ সাধারণত উষ্ণ আবহাওয়া প্রধান অঞ্চলে ভাল হয়।
নিমের পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও
তৈরি হচ্ছে।
কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই
কার্যকর। নিমের কাঠ খুবই শক্ত। এ কাঠে কখনো ঘুণ ধরে না। পোকা বাসা বাঁধে না। উইপোকা
খেতে পারে না। এ কারণে নিম কাঠের আসবাবপত্রও তৈরি করা হচ্ছে আজকাল। এছাড়া প্রাচীনকাল
থেকেই বাদ্যযন্ত্র বানানোর জন্য কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উৎপাদ ও প্রসারকে উত্সাহ
এবং অন্যায়ভাবে নিম গাছ ধ্বংস করাকে নিরুত্সাহিত করছে। নিমের এই গুনাগুনের কথা বিবেচনা
করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ বলে ঘোষনা করেছে।
আসুন জেনে নেই নিমের কিছু ব্যবহারিক
উপকারিতা-
কফজনিত বুকের ব্যথা:
অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা
করে। এ জন্য ৩০ ফোটা নিম পাতার রশ সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিতে ৩/৪ বার খেলে বুকের
ব্যথা কমবে। গর্ভবতী,শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ ঔষধটি নিষেধ।
কৃমি: পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা
হয়ে যায়। পেটে বড় হয়। চেহারা ফ্যকাশে হয়ে যায়। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের
মূলের ছালের গুড়া দিন ৩ বার সামান্য পানি গরমসহ খেতে হবে।
উকুন নাশ:
নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায়
লাগান। ঘন্টা খানেক ধরে মাথা ধুয়ে ফেলুন। ২/৩ দিন এভাবে লাগালে উকুন মরে যাবে।
অজীর্ণ: অনেকদিন ধরে পেটে অসুখ।
পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোটা নিম পাতার রস, সিকি কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল- বিকাল
খাওয়ালে উপকার পাওয়া যাবে।
খোস পাচড়া:
নিম পাতা সিদ্ধ করে পানি দিয়ে
গোসল করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো
হয়।
পোকা-মাকড়ের কামড়: পোকা মাকড়
কামল দিলে বা হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম
হবে।
দাতের রোগ:
নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা
নিমের চাল দিয়ে নিয়মিত দাত মাজলে দাত হবে মজবুত, রক্ষা পাবে রোগ।
জন্ডিস:
বাচ্চাদের জন্য ৫-১১ ফোঁটা, বয়স্কদের
জন্য ১ চামচ রস একটু মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে প্রতিদিন সকালে।
ডায়াবেটিস রোগ:
৫টি গোলমরিচ+১০টি নিম পাতা একত্রে
সকালে খালি পেটে খেতে হবে।
ওষুধের কৃত্রিমতার ওপরে নির্ভরশীল
না হয়ে, মনযোগী হয়ে উঠুন সুস্থ থাকবার প্রাকৃতিক উপায় গুলোর প্রতি। আমাদের চারপাশেই
ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অসাধারণ সব উপাদান, যার অল্প একটু ব্যবহারই প্রিতিদিন আমাদের
লাগবে সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্তও।
নিজে সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন
আপন পরিবারকে।
সূত্র: ইন্টারনেট


0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন