মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১৬
রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬
মেছো বিড়াল
সবুজ ময়ূর
সবুজ ময়ূর (Pavo muticus) (ইংরাজি: Green Peafowl) বা বর্মী ময়ূর Phasianidae (ফ্যাসিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Pavo (পাভো) গণের অসাধারণ সুন্দর, ঝলমলে রাজকীয় ময়ূর। সবুজ ময়ূরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ছোট ময়ূর (ল্যাটিন: pavo = ময়ূর; muticus = ছোট, ক্ষুদে বা সংক্ষিপ্ত)। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস, প্রায় ৯ লাখ ৯১ হাজার বর্গ কিলোমিটার। আবাসস্থল এত বিশাল হলেও পুরো এলাকাটির মাত্র অল্পসংখ্যক এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে এদের বিস্তৃতি রয়েছে। আবার বিগত কয়েক দশকে এদের সংখ্যা ভয়াবহভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেকারণে আই ইউ সি এন এই প্রজাতিটিকে Endengered
বা বিপন্ন বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে একসময় এরা প্রচুর পরিমাণে থাকলেও সম্প্রতি এদের দেখতে পাওয়ার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
- P. m. spicifer (Shaw & Nodder, 1804) – উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ এবং উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারে এদের সহজেই দেখা মিলত। এই উপপ্রজাতিটি সম্ভবত বিলুপ্ত (Possibly extinct)। উপপ্রজাতিটিতে নীলের ভাগ বেশি ও উজ্জ্বলতা বেশ কম।
- P. m.imperator (Delacour, 1949) – মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও চীনে এদের দেখা যায়। P. m.imperator প্রায় muticusএর মতই, তবে দেহতল বেশি গাঢ় ও চোখের পাশের হলুদ ছোপটি কম উজ্জ্বল।
- P. m. muticus (Linnaeus, 1758) – কেবলমাত্র ইন্দোনেশিয়ার জাভায় দেখা যায়। একসময় মালয় উপদ্বীপে বিস্তৃত থাকলেও সে এলাকায় এরা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। উপপ্রজাতিগুলোর মধ্যে এই উপপ্রজাতিটি সবচেয়ে উজ্জ্বল সবুজ আর এর ডানার পালকে গাঢ় সবুজ ও নীল বর্ণ থাকে।
শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৬
শকুনঃ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে
মৃতপ্রাণী খায় বলে একে মাংসাশি পাখি বলে। এর দেহ বিশাল। ডানা প্রশস্ত। দেহের রঙ কালচে। মাথা ও ঘাড় পালকহীন। কান লতিকাহীন। ঠোঁট সরু ও লম্বা। লেজের পালক সংখ্যা ১২-১৪টি। এর দৈর্ঘ্য ৯০ সেমি, ওজন ৪.৩ কেজি, ডানা ৫৫ সেমি, ঠোঁট ৭.৬ সেমি, পা ১১.৬ সেমি ও লেজ ২২.৫ সেমি। এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে মৃতপ্রাণী ও পচামাংস। সেপ্টেম্বর-মার্চ মাসে এরা ডিম পাড়ে মাত্র একটি করে। ডিমের মাপ ৮.৬ গুণ ৬.৪ সেমি। ৪৫ দিনের মাথায় এদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। উঁচু গাছ বা দালানে ডালপালা দিয়ে মাচার মতো করে বাসা বানায় এরা। আর এক বাসাতেই থাকে বছরের পর বছর।
টুনটুনি
টুনটুনি বিভিন্ন রকম খাবার খায়। এরা অনেক অপকারী পোকামাকড়,কীটপতঙ্গ খাদ্য হিসেবে খায়। তাছাড়াও ছোট কেঁচ, মৌমাছি, ফুলের মধু, রেশম মথ ইত্যাদি খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে। ধান-পাট-গম পাতার পোকা, শুয়োপোকা ও তার ডিম, আম পাতার বিছা পোকা তাদের খাদ্য তালিকায় আছে। টুনটুনির বাসা খুব বেশি উচুতে হয়না। সাধারনত এরা ৬-১০ সেমি উচ্চতায় বাসা বাধে। ছোট গুল্ম জাতীয় গাছ অথবা ঝোপঝাড় এদের প্রধান পছন্দ।শিম, লাউ, কাঠ বাদাম, সূর্যমূখী, ডুমুর, লেবু এগুলো গাছে এরা বেশি বাসা বাধে।পুরুষ ও স্ত্রী পাখি মিলে বাসা তৈরী করে।
বাংলাদেশের ফুলসমূহ
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪
লটকন
লটকন
| জগৎ/রাজ্য: | Plantae |
| (unranked): | Angiosperms |
| (unranked): | Eudicots |
| (unranked): | Rosids |
| বর্গ: | Malpighiales |
| পরিবার: | Phyllanthaceae |
| গণ: | Baccaurea |
| প্রজাতি: | B. motleyana |

ফুল - শ্বেতকাঞ্চন

জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Fabales
পরিবার: Fabaceae
উপপরিবার: Caesalpinioideae
গোত্র: Cercideae
গণ: Bauhinia
প্রজাতি: B. acuminata
দ্বিপদ নামঃ Bauhinia acuminata
বাংলায় সাদাকাঞ্চন নামে পরিচিত ফুলটির অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে Dwarf White orchid tree, Dwarf white bauhinia, Safed Kachnar, Chingthrao angouba, Vellai mandaarai, Sivamalli উল্লেখযোগ্য। শোভাবর্ধনকারী এই উদ্ভিদের বসতি ম ধ্যভারত, শ্রীলংকা, মালয় ওচিন। বাংলায়। দেখতে সুদৃশ্য হওয়ায় আমরা এদেরকে শুধু বাগানের শোভাবর্ধনে চাষ করে থাকি। এটি Caesalpinaceae (Gulmohar family) পরিবারের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। এটি ২-৩ মিটার উঁচু প ত্রমোচি গাছ, পাতার দৈর্ঘ্য ১০-১৫ সেমি ও প্রস্থ ৭-১২ সেমি, পাতার আগা দুই ভাগে বিভক্ত ও মসৃণ, নিচের শিরা সামান্য রোমশ। গাছ মোটামুটি ঝোপবিশিষ্ট, ফুল সাদা, মার্চ-অক্টোবর সময়ে গাছ অনবরত ফুল দেয়। বীজ দ্বারা এর বংশবিস্তার হয়, বীজের গাছ এক বছরেই ফুল দেয়।
Bauhinia গণে অনেক প্রজাতি আছে। কিন্তু Bauhinia acuminata প্রজাতিটি ব্যতীত অন্য সবগুলি বৃক্ষ। কোনো কোনোটি আবার লতানো। বাংলাদেশে Bauhinia গণে পাওয়া যায় দেবকাঞ্চন (Bauhinia purpurea) এবং রক্তকাঞ্চন (Bauhinia variegata) নামে দুটি বৃক্ষ।
সোমবার, ২১ জুলাই, ২০১৪
নিমপাতার নানা গুন
বৈজ্ঞানিক নাম (AZADIRACHTA INDICA)
১০ বছর। নিম গাছ সাধারণত উষ্ণ আবহাওয়া প্রধান অঞ্চলে ভাল হয়।
নিমের পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও
তৈরি হচ্ছে।
কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই
কার্যকর। নিমের কাঠ খুবই শক্ত। এ কাঠে কখনো ঘুণ ধরে না। পোকা বাসা বাঁধে না। উইপোকা
খেতে পারে না। এ কারণে নিম কাঠের আসবাবপত্রও তৈরি করা হচ্ছে আজকাল। এছাড়া প্রাচীনকাল
থেকেই বাদ্যযন্ত্র বানানোর জন্য কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উৎপাদ ও প্রসারকে উত্সাহ
এবং অন্যায়ভাবে নিম গাছ ধ্বংস করাকে নিরুত্সাহিত করছে। নিমের এই গুনাগুনের কথা বিবেচনা
করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ বলে ঘোষনা করেছে।
আসুন জেনে নেই নিমের কিছু ব্যবহারিক
উপকারিতা-
কফজনিত বুকের ব্যথা:
অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা
করে। এ জন্য ৩০ ফোটা নিম পাতার রশ সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিতে ৩/৪ বার খেলে বুকের
ব্যথা কমবে। গর্ভবতী,শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ ঔষধটি নিষেধ।
কৃমি: পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা
হয়ে যায়। পেটে বড় হয়। চেহারা ফ্যকাশে হয়ে যায়। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের
মূলের ছালের গুড়া দিন ৩ বার সামান্য পানি গরমসহ খেতে হবে।
উকুন নাশ:
নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায়
লাগান। ঘন্টা খানেক ধরে মাথা ধুয়ে ফেলুন। ২/৩ দিন এভাবে লাগালে উকুন মরে যাবে।
অজীর্ণ: অনেকদিন ধরে পেটে অসুখ।
পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোটা নিম পাতার রস, সিকি কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল- বিকাল
খাওয়ালে উপকার পাওয়া যাবে।
খোস পাচড়া:
নিম পাতা সিদ্ধ করে পানি দিয়ে
গোসল করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো
হয়।
পোকা-মাকড়ের কামড়: পোকা মাকড়
কামল দিলে বা হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম
হবে।
দাতের রোগ:
নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা
নিমের চাল দিয়ে নিয়মিত দাত মাজলে দাত হবে মজবুত, রক্ষা পাবে রোগ।
জন্ডিস:
বাচ্চাদের জন্য ৫-১১ ফোঁটা, বয়স্কদের
জন্য ১ চামচ রস একটু মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে প্রতিদিন সকালে।
ডায়াবেটিস রোগ:
৫টি গোলমরিচ+১০টি নিম পাতা একত্রে
সকালে খালি পেটে খেতে হবে।
ওষুধের কৃত্রিমতার ওপরে নির্ভরশীল
না হয়ে, মনযোগী হয়ে উঠুন সুস্থ থাকবার প্রাকৃতিক উপায় গুলোর প্রতি। আমাদের চারপাশেই
ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অসাধারণ সব উপাদান, যার অল্প একটু ব্যবহারই প্রিতিদিন আমাদের
লাগবে সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্তও।
নিজে সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন
আপন পরিবারকে।
সূত্র: ইন্টারনেট
ঔষধি গাছ স্নুহি (মনসা)
পুজোতে
এই গাছকে ব্যাবহার করা হয় । ভারতবর্ষের বহু জায়গায় এমনকি বাংলাদেশ,
ভুটানেও এর সাক্ষাত মেলে। এই গাছ খুব উচু হয়না, ডালপালা খুব বেশি থাকেনা,
একেবারে সজা হয়ে উপরে উঠে ।
ওষুধ হিসেবে মনসার মুল, কান্ড, শুকনো আঠা এবং পাতার রস ব্যাবহার করা হয়। প্রয়োগ এবং ব্যাবহারঃ ১। হুপিং কাশিতে- মনসার কয়েকটা পাতা নিয়ে আগুনে সেঁকে নিয়ে হাতে চেপে রস করুন। এবার এই রসে একটু চিনি বা লবন মিশিয়ে দু-তিনদিন খান। ২।
আকজিমা রোগে- মনসার কাণ্ড নিয়ে প্রথমে ক্বাথ তৈরি করুন। এই ক্বাথ সরষের
তেলে পাক করে ঐ জায়গায় লাগান । তেলের চারগুন নেবেন মনসার কাণ্ড, আর তার চার
গুন নেবেন পানি। একভাগ থাকতে নামিয়ে নেবেন। ৩। মাথার বিক্ষিপ্ত টাকে- মনসার আঠা দিয়ে তৈরি তেল মাথার লাগালে বিক্ষিপ্ত টাক সেরে যাবে। ৪। প্রমেহ রোগে- ৩ থেকে ৪ ফোটা মনসার ক্ষীর বাতাসার মাঝে নিয়ে ১৫-২০ দিন খান। ৫।
মেয়েদের বেতো চুলে- ২০ থেকে ২৫ গ্রাম নারকেল তেল একটা লোহার হাতায় নিয়ে
আগুনে চাপান। গরম হলে তার সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম মনসার আঠা একটু একটু করে
মিশিয়ে নাড়তে থাকুন যতক্ষন না চটচটে হয়। অতঃপর নামিয়ে শিশিতে রেখে দিন । বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ মনসার আঠা দিয়ে তৈরি তেল একদিন অন্তর অন্তর লাগান । যেখানে টাক হয়েছে সেখানেই কেবল লাগাবেন। |
ঔষধি গাছ মুলক (মুলা)
| মুলক (মুলা) |
এটি বহুল পরিচিত কন্দ শাক। দেশের প্রায় সর্বত্রই শাক ও তরকারি হিসেবে ব্যাবহারের জন্য এর চাষ হয়। উষ্ণপ্রধান অঞ্চলে কেবলমাত্র শীতকালেই এর চাষ হয় । শিতের সেশে মুলা গাছে ফুল তারপর শুটি ও ফল হয়। ওষুধ হিসেবে এর পাতা, মুল, ফল ও বীজ ব্যাবহত হয়। প্রয়োগ ও ব্যাবহারঃ ১। আমাশয়েঃ ১০ গ্রাম শুকনো মুলা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিন। সারাদিন এটি ৪ থেকে পাঁচ বার খান দেখবেন আমাশয় ভাল হয়ে যাবে। ২। মেয়েদের কষ্টরজেঃ এক থেকে দেড় গ্রাম মুলার বীজচূর্ণ পানির সাথে সকালে এবং বিকেলে কিছু খাবার পরে খেতে হবে। ৩। ছুলি রোগেঃ ৫ থেকে ৭ গ্রাম মুলা বীজ পানিতে বেটে নিন তারপর চন্দনের মত সারা গায়ে লাগান। |








