প্রকৃতি ও পরিবেশ - Nature & Environment লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রকৃতি ও পরিবেশ - Nature & Environment লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১৬

শেয়ালকাঁটা

শেয়ালকাঁটা

 শেয়ালকাঁটার দেখা মিলবে আমাদের গ্রামের আশেপাশের ঝোপঝাড়, খেত খামারের পাশে, পুরনো ভবনে পাশে। এসব এলাকায় শেয়ালের আবাস বলে গ্রামের মানুষ এঁকে শেয়ালকাঁটা নাম দিয়েছে। বন ও পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও শেয়ালকাঁটা দেশের অসংখ্য জলাশয়, হাওর-বিল, পানা পুকুর থেকে শুরু করে সুন্দরবন ঘেঁষে সমুদ্রোপকূলের বিশাল এলাকায় চোখে পড়বে। পাতা বেশ ধারালো এবং তিখন কাঁটায় পরিপূর্ণ। দেখতে অনেকটা আফিম গাছের মত। আফিম এবং শেয়ালকাঁটা একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।


বৈজ্ঞানিক নাম (Argemone Mexicana) আমাদের দেশে এসেছে সুদূর মেক্সিকো থেকে। ষোড়শ শতকে স্প্যানিশ বাণিজ্যিক জাহাজে আলুর বস্তা এবং মাটির সঙ্গে সরিষার দানার মত ছোট ছোট বীজ আমাদের দেশে চলে এসেছিল। এরপর ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। ভেষজ পণ্ডিতরা এঁকে অনেক নামে অলংকৃত করেছেন। যেমন- স্বর্ণক্ষীরা, স্বর্ণদুগ্ধা, রুক্সিনী, সুবর্ণা, হেমদুগ্ধী ও কাঞ্চনী। শেয়ালকাঁটার রস কুষ্ঠ রোগে ব্যবহৃত হয়। গাছের পীতবর্ণের রস গনোরিয়া ও উপদংশ রোগে উপকারী।



রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬

মেছো বিড়াল

মেছো বিড়াল

মেছো বিড়াল, ফিশিং ক্যাট (Felis viverrina) এখনো এদেশে দুর্লভ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় নি। চেহারা-আদল এবং গায়ের ডোরা প্রায় বাঘের মত হওয়ার কারণে এ প্রাণীকে অনেকেই ভয় পান। কেউ বলেন মেছো বাঘ, ছোট বাঘ, বাঘুইলা বা মেচি বাঘ। এদেরকে কোন কোন এলাকায় বাঘ বলার যথেষ্ট কারন রয়েছে। মেছো বিড়াল লেজসহ লম্বায় সাড়ে তিনফুট। ওজনে ১২-১৩ কেজি ভারী দেহের সাথে খাটো পা এদের আকৃতি অন্য সব বিড়াল থেকে কিছুটা আলাদা করে ফেলে। সামান্য বা আলগোছ হলুদে মেশানো ধূসর রঙের চামড়ায় মোটামুটি লম্বালম্বিভাবে কয়েক সারি বা গাড় হলুদ ডোরা রয়েছে।


মেছো বিড়াল বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় পাওয়া যেতে পারে । তবে ঝোপঝাড় বা জঙ্গলযুক্ত এলাকায় ওদের দেখা মেলে বেশি। সকল বনাঞ্চলেই ওরা কমবেশি আছে। তবে এদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।


মেছো বাঘ মূলত মাছ এবং কাঁকড়াভুক হলেও এদের খাদ্য তালিকায় শামুক, মোরগ-মুরগি, হাঁস, ছাগল, ভেড়া এবং বাছুর অন্তর্ভুক্ত। খাদ্যাভাব দেখা দিলে ওরা মানুষের ঘরে ঢুকে শিশু বা বাচ্চা তুলে নিএ যায়। এ কাজটি ওরা করে সাধারণত সন্ধ্যা বা রাতের বেলা। তখন গ্রামের আলোআধারিতে পুরো প্রানিতিকে না দেখতে পারার জন্য অনেকেই একে বাঘ বলে চিহ্নিত করে থাকেন। মাছ ধরার জন্য মেছো বিড়াল পানিতে নামে না। পানির উপর কোন গাছের ডালে বা পানির উপর জেগে থাকা কোন পাথরের উপরে বসে থাবা দিয়ে শিকার ধরে।
তথ্যসুত্রঃ ড. আলী রেজা খান (বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী),  ছবিঃ সংগ্রহ
সবুজ ময়ূর

সবুজ ময়ূর

বুজ ময়ূর (Pavo muticus) (ইংরাজি: Green Peafowl) বা বর্মী ময়ূর Phasianidae (ফ্যাসিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Pavo (পাভো) গণের অসাধারণ সুন্দর, ঝলমলে রাজকীয় ময়ূর। সবুজ ময়ূরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ছোট ময়ূর (ল্যাটিন: pavo = ময়ূর; muticus = ছোট, ক্ষুদে বা সংক্ষিপ্ত)। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস, প্রায় ৯ লাখ ৯১ হাজার বর্গ কিলোমিটার। আবাসস্থল এত বিশাল হলেও পুরো এলাকাটির মাত্র অল্পসংখ্যক এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে এদের বিস্তৃতি রয়েছে। আবার বিগত কয়েক দশকে এদের সংখ্যা ভয়াবহভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেকারণে আই ইউ সি এন এই প্রজাতিটিকে Endengered

সবুজ ময়ুর

বা বিপন্ন বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে একসময় এরা প্রচুর পরিমাণে থাকলেও সম্প্রতি এদের দেখতে পাওয়ার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
সমগ্র পৃথিবীতে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ১৯ হাজার ৯৯৯টি পূর্ণবয়স্ক সবুজ ময়ূর রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক-প্রাপ্তবয়স্ক সব মিলিয়ে মোট সবুজ ময়ূরের সংখ্যা আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার।


বিস্তৃতি
এক সময় সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে সবুজ ময়ূরের অবাধ বিস্তার ছিল। বর্তমানে জীবিত ময়ূরের বড় অংশ কম্বোডিয়া, মিয়ানমারও ভিয়েতনামের পশ্চিমাংশে বসবাস করে। বাকি সবুজ ময়ূরের বসবাস উত্তর ও পশ্চিম থাইল্যান্ড, দক্ষিণ লাওস, চীনের হিনান প্রদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার জাভায়। ভারতের মনিপুর প্রদেশে কদাচিৎ এদের দেখা মেলে। একসময় মিজোরামে এদের স্থায়ী আবাস হলেও এখন আর সেখানে এদের দেখা যায় না। সর্বশেষ ২০০৭ সালে মিজোরামের দক্ষিণে একটি সবুজ ময়ূর দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশে ১৯৪০ এর দশকেও সবুজ ময়ূর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিল। এখনও বান্দরবানের গহীন বনে সবুজ ময়ূর থাকতে পারে। মালয়েশিয়া থেকে বহু আগেই এরা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।


উপপ্রজাতি
এ পর্যন্ত সবুজ ময়ূরের মোট তিনটি উপপ্রজাতি সনাক্ত করা গেছে।উপপ্রজাতিগুলো হচ্ছে:
  • P. m. spicifer (Shaw & Nodder, 1804) – উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ এবং উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারে এদের সহজেই দেখা মিলত। এই উপপ্রজাতিটি সম্ভবত বিলুপ্ত (Possibly extinct)। উপপ্রজাতিটিতে নীলের ভাগ বেশি ও উজ্জ্বলতা বেশ কম।
  • P. m.imperator (Delacour, 1949) – মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও চীনে এদের দেখা যায়। P. m.imperator প্রায় muticusএর মতই, তবে দেহতল বেশি গাঢ় ও চোখের পাশের হলুদ ছোপটি কম উজ্জ্বল।
  • P. m. muticus (Linnaeus, 1758) – কেবলমাত্র ইন্দোনেশিয়ার জাভায় দেখা যায়। একসময় মালয় উপদ্বীপে বিস্তৃত থাকলেও সে এলাকায় এরা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। উপপ্রজাতিগুলোর মধ্যে এই উপপ্রজাতিটি সবচেয়ে উজ্জ্বল সবুজ আর এর ডানার পালকে গাঢ় সবুজ ও নীল বর্ণ থাকে।




বিবরণ
সবুজ ময়ূর দেখতে অনেকটা নীল ময়ুরের মতই, তবে শরীরে ঝলমলে ধাতব সবুজ পালকের আধিক্য রয়েছে। এরা বেশ বড় আকারের ভূচর পাখি। এদের দৈর্ঘ্য ১০০-৩০০ সেন্টিমিটার, ডানা ৪৫ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ৪.ত সেন্টিমিটার, পা ১৫.২ সেন্টিমিটার, লেজ ৪.৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪.৫ কিলোগ্রাম। পুরুষ ময়ূরের পেখম ১৫০ সেন্টিমিটার।পুরুষ ময়ূরের চেহারা ও আকার স্ত্রী পাখির থেকে কিছুটা আলাদা। পুরুষ ময়ূরের পিঠ ও ঘাড় সবুজ; ঘাড়, গলা ও বুকের পালক আঁশের মত উঁচু। পালকহীন মুখের চামড়া নীল ও হলুদে মেশানো। ডানা-ঢাকনি সবুজ রঙের। ডানার মধ্যভাগ ও গোড়ার পালক বাদামি; লেজের পেখমের প্রান্তে কালো চক্রের মধ্যে বেগুনী ফোঁটা দেখা যায়। দেহতলে সরু কালো ধাতব তামাটে, সবুজ ও বেগুনী দাগ থাকে। এমনিতে স্ত্রী ময়ূর বা ময়ূরীর চেহারা সামনে থেকে পুরুষ ময়ূরের মতই, তবে দেহের কিছু কিছু অংশ ফ্যাকাসে। পিঠ গাঢ় বাদামি বর্ণের। লেজ পেখমহীন। ডানা-ঢাকনি, পিঠের শেষভাগ ও কোমর কালচে বাদামি। লেজে পীতাভ, বাদামি ও কালো রঙের ডোরা আছে। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় ময়ূরের সুঁচালো ও বিপরীতমুখী। চোখ কালো, পা ও ঠোঁট ধূসর। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি দেখতে ময়ূরীর মত, কেবল কোমরে সবুজাভ ও তামাটে বর্ণ থাকে না।
স্বভাব
সবজ ময়ূর সাধারণত ছোট দলে বিচরণ করে; এক একটি দলে একটিমাত্র পুরুষ ময়ূর ও তিন থেকে পাঁচটি ময়ূরী থাকে। এরা স্বভাবে দিবাচর, তবে ভোরবেলা আর গোধূলিতে বেশি সক্রিয় থাকে। জোরে ডানা ঝাপটে এরা দ্রুত উড়তে পারে। ময়ূর উঁচুস্বরে ইয়েই-অও….. স্বরে ডাকে যা বহু দূর থেকেও শোনা যায়। ময়ূরীর ডাক অনেকটাঅ্যাও-অ্যা….। ভয় পেলে এরা ডাকে কের্-র-র-র-রু….। এক ময়ূরের ডাকের জবাবে অন্য ময়ূরও ডেকে ওঠে। বেশিরভাগ এলাকাতেই এরা লাজুক স্বভাবের এবং কাছে গেলেই লুকিয়ে পড়ে বা উড়ে যায়। তবে যেসব এলাকায় এদের তেমন একটা ক্ষতি করা হয় না, সেসব এলাকায় এরা মানুষের আশেপাশে পোষা পাখির মত ঘুরে বেড়ায়।
বিচরণস্থল
সবুজ ময়ূরের বিচরণ সমূদ্রসমতল থেকে সর্বোচ্চ ৩০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত হয়। সবুজ ময়ূর প্রধানত হালকা বনভূমি, বনভূমি সংলগ্ন ঘাসবন ও খোলা জায়গা, সাভানা, বনসংলগ্ন নদীর পাড়, ক্ষেতখামার ইত্যাদি এলাকায় খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। অনেকসময় গৃহপালিত হাঁস-মুরগীর সাথে ঘুরে ঘুরে খাবার খায়। এদের জীবনধারণের জন্য প্রচুর পানির দরকার হয়, সেকারণে পানির উৎসের আশেপাশেই এদের দেখা যায়।
খাদ্যাভ্যাস
এদের জাতভাই নীল ময়ূরের মত সবুজ ময়ূরও সর্বভূক। খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ, শস্যদানা (মূলত ধান), তৃণ, কচি উদ্ভিদের কান্ড, গাছের পাতা, ফুলের কলি, রসালো ফল ইত্যাদি। এছাড়া এরা ঘাসফড়িং, গুবরে পোকা, মথ, ফড়িং, ঝিঁঝিঁ পোকাসহ বিভিন্ন জাতের পোকামাকড়, ব্যাঙ, গিরগিটি ও ছোট সাপ খায়। মটরশুঁটি আর মিষ্টি আলুর মৌসুমে এরা ক্ষেতে হানা দিয়ে ফসল সাবাড় করে। মাটি আঁচড়ে, ঝরা-পাতা উল্টে এরা বনতলে খাবার খুঁজে বেড়ায়।
প্রজনন
যদিও একটি ময়ূরকে ঘিরে একাধিক ময়ূরী নিয়ে একটি দল তৈরি করার ব্যাপারটা জানা যায়, তবুও দলগুলো স্থায়ী হয় না। প্রকৃতপক্ষে ময়ূর তার এলাকায় অনুপ্রবেশকারী একটি ময়ূরীর (কখনও কখনও একাধিক, তবে এমনটি কমই ঘটে) সাথে জোড়া বাঁধে। আর বাকি ‘ময়ূরীরা’ আসলে অপ্রাপ্তবয়স্ক ময়ূর যারা ঐ ময়ূরীর সন্তানমাত্র। আবদ্ধ অবস্থায় সবুজ ময়ূরের একগামী স্বভাবের মাধ্যমে একথার সত্যতা মেলে। নীল ময়ূরের সাথে সবুজ ময়ূরের এটি আর একটি পার্থক্য।
জানুয়ারি থেকে মে এদের প্রধান প্রজননকাল। প্রজননকালে পুরুষ ময়ূরেরা কঠিনভাবে তাদের নিজ নিজ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিটি ময়ূর তার প্রতিবেশী ময়ূরের থেকে ১০০ থেকে ৪০০ মিটারের মত দূরত্ব বজায় রাখে। এসময় এরা পেখম মেলে ও ধীরে ধীরে ঘুরে ঘুরে ময়ূরীর দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করে। ময়ূরী একাই বাসা বানাবার জন্য জায়গা নির্ধারণ করে এবং ঘন ঝোপের নিচে মাটিতে বাসা করে। বাসা বানানো শেষে ৩-৮টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলোর বর্ণ পীতাভ। ডিমগুলোর মাপ ৭.২ × ৫.৩ সেন্টিমিটার। কেবল স্ত্রী ময়ূর ডিমে তা দেয়। ২৬-২৮ দিন পর ডিম ফুটে ছানা বের হয়। ছানারা খুব কম বয়সেই উড়তে শিখে যায়। অপ্রাপ্তবয়স্করা মায়ের সাথে ঘুরে বেড়ায়। সাধারণত ময়ূর দুই বছরে এবং ময়ূরী এক বছরে বয়োঃপ্রাপ্ত হয়।
অস্তিত্বের সংকট
সবুজ ময়ূর খুব সরব পাখি। একটু শব্দ হলে বা বিশ্রামের সময়ে এরা ডেকে ওঠে। ফলে এরা শিকারীর সহজ শিকারে পরিণত হয়। আবার বড়সড় আকার ও ঝলমলে পালকের জন্য এরা খুব সহজেই দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়। নির্বিচারে শিকারের ফলে দিন দিন এরা সংখ্যায় কমে যাচ্ছে। এছাড়া বেআইনী ব্যবসা, আবাসস্থল ধ্বংস, বিচ্ছিন্ন বিস্তৃতি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, রোগবালাই, পরিবেশ দূষণ ও কীটনাশকের অবাধ ব্যবহারের ফলে সারা বিশ্বে সবুজ ময়ূর আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে
তথ্যসুত্র ও ছবিঃ উইকিপিডিয়া

শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৬

শকুনঃ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে

শকুনঃ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে

কুন ( ইংরেজি: Vulture) এক প্রকার পাখি। এটি মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে থাকে। সাধারণত এরা অসুস্থ ও মৃতপ্রায় প্রাণীর চারিদিকে উড়তে থাকে এবং প্রাণীটির মরার জন্য অপেক্ষা করে। পাখিগুলো তীক্ষ্ম দৃষ্টির অধিকারী শিকারি পাখিবিশেষ।


শকুনের গলা, ঘাড় ও মাথায় কোনো পালক থাকে না। প্রশস্ত ডানায় ভর করে আকাশে ওড়ে।লোকচক্ষুর আড়ালে মহীরুহ বলে পরিচিত বট, পাকুড়, অশ্বত্থ, ডুমুর প্রভৃতি বিশালাকার গাছে সাধারণত শকুন বাসা বাঁধে। সাধারণত গুহায়, গাছের কোটরে বা পর্বতের চূড়ায় ১-৩টি সাদা বা ফ্যাকাসে ডিম পাড়ে।
সারা বিশ্বে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন দেখা যায়, এর মধ্যে পশ্চিম গোলার্ধে ৭ প্রজাতির এবং পূর্ব গোলার্ধে (ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া) ঈগলের সাথে সম্পর্কিত ১১ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে  প্রায় ৬ প্রজাতির শকুন রয়েছে, এর মধ্যে ৪ প্রজাতি স্থায়ী আর ২ প্রজাতি পরিযায়ী। শকুন বা বাংলা শকুন ছাড়াও এতে আছে রাজ শকুনগ্রীফন শকুন বা ইউরেশীয় শকুন হিমালয়ী শকুনসরুঠোঁট শকুনকালা শকুন ও ধলা শকুন। তবে শুধু গ্রীফন প্রজাতির শকুনই মাঝে মাঝে দেখা যায় (পরিপ্রেক্ষিত ২০১০)। এসব প্রজাতির শকুনই সারা বিশ্বে বিপদাপন্ন। স্থায়ী প্রজাতির মধ্যে রাজশকুন মহাবিপন্ন ।এটি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্যে ঠোঁটে পাথরের টুকরো বহন করে ও ডিমের উপর নিক্ষেপ করে।

বাংলাদেশে এখন মাত্র কয়েকশ বাংলা শকুন অবশিষ্ট আছে। সেজন্য এ পাখিটি বিশ্বের ‘মহাবিপন্ন প্রাণি’র তালিকায় রয়েছে। আমাদের দেশে একে এখনো বিপদগ্রস্তের তালিকায় রাখা হয়নি। তবে বন্যপ্রাণী আইনে এটি সংরক্ষিত।
মৃতপ্রাণী খায় বলে একে মাংসাশি পাখি বলে। এর দেহ বিশাল। ডানা প্রশস্ত। দেহের রঙ কালচে। মাথা ও ঘাড় পালকহীন। কান লতিকাহীন। ঠোঁট সরু ও লম্বা। লেজের পালক সংখ্যা ১২-১৪টি। এর দৈর্ঘ্য ৯০ সেমি, ওজন ৪.৩ কেজি, ডানা ৫৫ সেমি, ঠোঁট ৭.৬ সেমি, পা ১১.৬ সেমি ও লেজ ২২.৫ সেমি। এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে মৃতপ্রাণী ও পচামাংস। সেপ্টেম্বর-মার্চ মাসে এরা ডিম পাড়ে মাত্র একটি করে। ডিমের মাপ ৮.৬ গুণ ৬.৪ সেমি। ৪৫ দিনের মাথায় এদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। উঁচু গাছ বা দালানে ডালপালা দিয়ে মাচার মতো করে বাসা বানায় এরা। আর এক বাসাতেই থাকে বছরের পর বছর।

বাংলা শকুন
বাংলাদেশে মোট ৬  প্রজাতির দেখা পাওয়া যেত। শকুন, রাজ শকুন, সাদা গিদরী বা গিন্নী শকুন, লম্বা ঠোঁট শকুৃন আমাদের দেশীয় প্রজাতি। আর ভ্রমণকারী হিসেবে কালো শকুন আর গ্রিফন শকুন ছিল। রাজ শকুন শেষবারের মত দেখা গেছে ৮০’র দশকে। এখনও হয়ত কোথাও টিকে রয়েছে। তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে। লম্বা ঠোঁট শকুন ১৯৯২ সালে ভৈরবে পক্ষিবিদ পল থমসন শেষবারের মতন দেখেন। গিন্নী শকুনের শেষ দেখাও ১৯৮৪ সালে পল থমসনের চোখে। কালো শকুন ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে ধরা পড়ে চাঁদপুরে। পরে এটিকে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় রাখা হয়। গ্রিফন শকুন ১৮ নভেম্বর ১৯৯২ সালে শেষবারের মত দেখা যায় ভৈরবে।


বাংলা শকুন টিকে রয়েছে কোন রকমে। অথচ সত্তর দশকে রাজ শকুন আর বাংলা শকুনে ছেয়ে ছিল ঢাকা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ চিত্রগুলোতে দেখা যায় দল বেধে মৃতদেহের উপর বসে আছে তারা। সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির বুদ্ধ নারিকেল গাছের সারিতে আর পলাশী ব্যারাকের কাছের উঁচু গাছগুলোতে দেখা যেত বাংলা শকুনের। এখন বাংলা শকুন ছাড়া আর কোন শকুন কারো চোখে পড়ে না। গোটা বাংলাদেশ জুড়ে মোট শকুনের সংখ্যা ২০০০টিও নয়’ বলে জানিয়েছেন বন অধিদপ্তর।
বাংলা শকুনের সবচেয়ে বড় দলটি এখন রয়েছে শ্রীমঙ্গলের কালাছড়া এলাকায়। সেখানে একসাথে প্রায় ৪৭টি শকুন বাস করে। গত বছর বাংলাদেশ বার্ডস ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এই শকুনের দলটি। হবিগঞ্জের রেমা কালেঙ্গায় রয়েছে ২০টি শকুন। সুন্দরবনের দিকে বেশ বড় কয়েকটি দল রয়েছে।
তথ্য ও ছবিঃ সংগ্রহ
টুনটুনি

টুনটুনি

টুনটুনি আকারে ছোট পাখি। এদের যত চালাক পাখি ভাবা হয় আসলে তা নয়। এরা যেমন চালাক তেমন বোকা। টুনটুনি বিপদ দেখলেই চেঁচামেচি করে। ফলে সহজেই শত্রুর কবলে পড়ে। টুনটুনির ইংরেজী নাম Common tailbird অর্থাৎ দর্জি পাখি। এরা গাছের পাতা ঠোঁট দিয়ে সেলাই করে বাসা বানায়। বৈজ্ঞানিক নাম–Orthotommus sutoriu দেহের গঠনঃ টুনটুনির বুক ও পেট সাদাটে। অনেকটা মাটির ঢিলার মত। ডানার উপরিভাগ জলপাই-লালচে। মাথা জলপাই-লালচে। চোখের মনি পাকা মরিচের মত।বুক সাদা পালকে ঢাকা। লেজ খাড়া, তাতে কালচে দাগ আছে। ঋতুভেদে পিঠ ও ডানার রঙ কিছুটা বদলায়।

টুনটুনি বিভিন্ন রকম খাবার খায়। এরা অনেক অপকারী পোকামাকড়,কীটপতঙ্গ খাদ্য হিসেবে খায়। তাছাড়াও ছোট কেঁচ, মৌমাছি, ফুলের মধু, রেশম মথ ইত্যাদি খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে। ধান-পাট-গম পাতার পোকা, শুয়োপোকা ও তার ডিম, আম পাতার বিছা পোকা তাদের খাদ্য তালিকায় আছে। টুনটুনির বাসা খুব বেশি উচুতে হয়না। সাধারনত এরা ৬-১০ সেমি উচ্চতায় বাসা বাধে। ছোট গুল্ম জাতীয় গাছ অথবা ঝোপঝাড় এদের প্রধান পছন্দ।শিম, লাউ, কাঠ বাদাম, সূর্যমূখী, ডুমুর, লেবু এগুলো গাছে এরা বেশি বাসা বাধে।পুরুষ ও স্ত্রী পাখি মিলে বাসা তৈরী করে।
তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া, ছবিঃ সংগ্রহ


বাংলাদেশের ফুলসমূহ

বাংলাদেশের ফুলসমূহ

(১) উভয়পদ্ম (হিমচাপা)

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪

 লটকন

লটকন

      
                                                              লটকন
 জগৎ/রাজ্য: Plantae
(unranked): Angiosperms
(unranked): Eudicots
(unranked): Rosids
বর্গ: Malpighiales
পরিবার: Phyllanthaceae
গণ: Baccaurea
প্রজাতি: B. motleyana
 লটকন (বৈজ্ঞানিক নাম Baccaurea motleyana) এক প্রকার টক মিষ্টি ফল। গাছটি দক্ষিণ এশিয়ায় বুনো গাছ হিসেবে জন্মালেও বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বানিজ্যিক চাষ হয়। লটকন বৃক্ষ ৯-১২ মিটার লম্বা হয়, এর কান্ড বেটে এবং উপরাংশ ঝোপালো। পুং এবং স্ত্রী গাছ আলাদা; যাতে আলাদা ধরণের হলুদ ফুল হয়, উভয় রকম ফুলই সুগন্ধি। ফলের আকার দুই থেকে পাঁচ সেমি হয়, যা থোকায় থোকায় ধরে। ফলের রঙ হলুদ। ফলে ২-৫ টি বীজ হয়, বীজের গায়ে লাগানো রসালো ভক্ষ্য অংশ থাকে, যা জাতভেদে টক বা টকমিষ্টি স্বাদের। এই ফল সরাসরি খাওয়া হয় বা জ্যাম তৈরি করা হয়। এর ছাল থেকে রঙ তৈরি করা হয় যা রেশম সুতা রাঙাতে ব্যবহৃত হয়। এর কাঠ নিম্নমানের। ছায়াযুক্ত স্থানেই এটি ভাল জন্মে। লটকনের বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে; যেমন- হাড়ফাটা, ডুবি, বুবি, কানাইজু, লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান ইত্যাদি। বাংলাদেশে একসময় অপ্রচলিত ফলের তালিকায় ছিল লটকন। অধুনা এর বানিজ্যিক উৎপাদন ব্যাপক আকারে হচ্ছে। উন্নত জাতের সুমিষ্ট লটকনের চাষ বৃদ্ধির সাথে সাথে এর জনপ্রিয়তাও বেশ বেড়েছে। এদেশের নরসিংদীতেই লটকনের ফলন বেশি। এ ছাড়া সিলেট, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাজীপুর—এসব জেলায়ও ইদানীং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লটকনের চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে লটকন বিদেশেও রফতানি করা হয়।
         ফুল - শ্বেতকাঞ্চন

ফুল - শ্বেতকাঞ্চন

        



                                                                শ্বেতকাঞ্চন ফুল
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Fabales
পরিবার: Fabaceae
উপপরিবার: Caesalpinioideae
গোত্র: Cercideae
গণ: Bauhinia
প্রজাতি: B. acuminata
দ্বিপদ নামঃ Bauhinia acuminata
বাংলায় সাদাকাঞ্চন নামে পরিচিত ফুলটির অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে Dwarf White orchid tree, Dwarf white bauhinia, Safed Kachnar, Chingthrao angouba, Vellai mandaarai, Sivamalli উল্লেখযোগ্য। শোভাবর্ধনকারী এই উদ্ভিদের বসতি ম ধ্যভারত, শ্রীলংকা, মালয় ওচিন। বাংলায়। দেখতে সুদৃশ্য হওয়ায় আমরা এদেরকে শুধু বাগানের শোভাবর্ধনে চাষ করে থাকি। এটি Caesalpinaceae (Gulmohar family) পরিবারের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। এটি ২-৩ মিটার উঁচু প ত্রমোচি গাছ, পাতার দৈর্ঘ্য ১০-১৫ সেমি ও প্রস্থ ৭-১২ সেমি, পাতার আগা দুই ভাগে বিভক্ত ও মসৃণ, নিচের শিরা সামান্য রোমশ। গাছ মোটামুটি ঝোপবিশিষ্ট, ফুল সাদা, মার্চ-অক্টোবর সময়ে গাছ অনবরত ফুল দেয়। বীজ দ্বারা এর বংশবিস্তার হয়, বীজের গাছ এক বছরেই ফুল দেয়।
Bauhinia গণে অনেক প্রজাতি আছে। কিন্তু Bauhinia acuminata প্রজাতিটি ব্যতীত অন্য সবগুলি বৃক্ষ। কোনো কোনোটি আবার লতানো। বাংলাদেশে Bauhinia গণে পাওয়া যায় দেবকাঞ্চন (Bauhinia purpurea) এবং রক্তকাঞ্চন (Bauhinia variegata) নামে দুটি বৃক্ষ।

সোমবার, ২১ জুলাই, ২০১৪

 নিমপাতার নানা গুন

নিমপাতার নানা গুন

বৈজ্ঞানিক নাম (AZADIRACHTA INDICA) 



এর ডাল, পাতা, রস, সবই কাজে লাগে। নিম একটি বহু বর্ষজীবি ও চির হরিত বৃক্ষ। বাংলাদেশের সবত্রই জন্মে তবে উত্তরাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। প্রাপ্ত বয়স্ক হতে সময় লাগে
১০ বছর। নিম গাছ সাধারণত উষ্ণ আবহাওয়া প্রধান অঞ্চলে ভাল হয়।

নিমের পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও তৈরি হচ্ছে। 

কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই কার্যকর। নিমের কাঠ খুবই শক্ত। এ কাঠে কখনো ঘুণ ধরে না। পোকা বাসা বাঁধে না। উইপোকা খেতে পারে না। এ কারণে নিম কাঠের আসবাবপত্রও তৈরি করা হচ্ছে আজকাল। এছাড়া প্রাচীনকাল থেকেই বাদ্যযন্ত্র বানানোর জন্য কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উৎপাদ ও প্রসারকে উত্সাহ এবং অন্যায়ভাবে নিম গাছ ধ্বংস করাকে নিরুত্সাহিত করছে। নিমের এই গুনাগুনের কথা বিবেচনা করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‌‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ বলে ঘোষনা করেছে।

আসুন জেনে নেই নিমের কিছু ব্যবহারিক উপকারিতা-

 

কফজনিত বুকের ব্যথা:

অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা করে। এ জন্য ৩০ ফোটা নিম পাতার রশ সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিতে ৩/৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমবে। গর্ভবতী,শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ ঔষধটি নিষেধ।

কৃমি: পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। পেটে বড় হয়। চেহারা ফ্যকাশে হয়ে যায়। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের মূলের ছালের গুড়া দিন ৩ বার সামান্য পানি গরমসহ খেতে হবে।

 উকুন নাশ:

নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায় লাগান। ঘন্টা খানেক ধরে মাথা ধুয়ে ফেলুন। ২/৩ দিন এভাবে লাগালে উকুন মরে যাবে।

অজীর্ণ: অনেকদিন ধরে পেটে অসুখ। পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোটা নিম পাতার রস, সিকি কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল- বিকাল খাওয়ালে উপকার পাওয়া যাবে।

খোস পাচড়া:

নিম পাতা সিদ্ধ করে পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়।

পোকা-মাকড়ের কামড়: পোকা মাকড় কামল দিলে বা হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হবে।

দাতের রোগ:

নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের চাল দিয়ে নিয়মিত দাত মাজলে দাত হবে মজবুত, রক্ষা পাবে রোগ।


জন্ডিস:

বাচ্চাদের জন্য ৫-১১ ফোঁটা, বয়স্কদের জন্য ১ চামচ রস একটু মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে প্রতিদিন সকালে।

ডায়াবেটিস রোগ:

৫টি গোলমরিচ+১০টি নিম পাতা একত্রে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

ওষুধের কৃত্রিমতার ওপরে নির্ভরশীল না হয়ে, মনযোগী হয়ে উঠুন সুস্থ থাকবার প্রাকৃতিক উপায় গুলোর প্রতি। আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অসাধারণ সব উপাদান, যার অল্প একটু ব্যবহারই প্রিতিদিন আমাদের লাগবে সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্তও।

নিজে সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন আপন পরিবারকে।

সূত্র: ইন্টারনেট

       ঔষধি গাছ  স্নুহি (মনসা)

ঔষধি গাছ স্নুহি (মনসা)



পুজোতে এই গাছকে ব্যাবহার করা হয় । ভারতবর্ষের বহু জায়গায় এমনকি বাংলাদেশ, ভুটানেও এর সাক্ষাত মেলে। এই গাছ খুব উচু হয়না, ডালপালা খুব বেশি থাকেনা, একেবারে সজা হয়ে উপরে উঠে ।
ওষুধ হিসেবে মনসার মুল, কান্ড, শুকনো আঠা এবং পাতার রস ব্যাবহার করা হয়।

প্রয়োগ এবং ব্যাবহারঃ

১। হুপিং কাশিতে- মনসার কয়েকটা পাতা নিয়ে আগুনে সেঁকে নিয়ে হাতে চেপে রস করুন। এবার এই রসে একটু চিনি বা লবন মিশিয়ে দু-তিনদিন খান।
২। আকজিমা রোগে- মনসার কাণ্ড নিয়ে প্রথমে ক্বাথ তৈরি করুন। এই ক্বাথ সরষের তেলে পাক করে ঐ জায়গায় লাগান । তেলের চারগুন নেবেন মনসার কাণ্ড, আর তার চার গুন নেবেন পানি। একভাগ থাকতে নামিয়ে নেবেন।
৩। মাথার বিক্ষিপ্ত টাকে- মনসার আঠা দিয়ে তৈরি তেল মাথার লাগালে বিক্ষিপ্ত টাক সেরে যাবে।
৪। প্রমেহ রোগে- ৩ থেকে ৪ ফোটা মনসার ক্ষীর বাতাসার মাঝে নিয়ে ১৫-২০ দিন খান।
৫। মেয়েদের বেতো চুলে- ২০ থেকে ২৫ গ্রাম নারকেল তেল একটা লোহার হাতায় নিয়ে আগুনে চাপান। গরম হলে তার সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম মনসার আঠা একটু একটু করে মিশিয়ে নাড়তে থাকুন যতক্ষন না চটচটে হয়। অতঃপর নামিয়ে শিশিতে রেখে দিন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

মনসার আঠা দিয়ে তৈরি তেল একদিন অন্তর অন্তর লাগান ।
যেখানে টাক হয়েছে সেখানেই কেবল লাগাবেন।


ঔষধি গাছ মুলক (মুলা)

ঔষধি গাছ মুলক (মুলা)



                                                                  মুলক (মুলা)


এটি বহুল পরিচিত কন্দ শাক। দেশের প্রায় সর্বত্রই শাক ও তরকারি হিসেবে ব্যাবহারের জন্য এর চাষ হয়।

উষ্ণপ্রধান অঞ্চলে কেবলমাত্র শীতকালেই এর চাষ হয় । শিতের সেশে মুলা গাছে ফুল তারপর শুটি ও ফল হয়। ওষুধ হিসেবে এর পাতা, মুল, ফল ও বীজ ব্যাবহত হয়।

প্রয়োগ ও ব্যাবহারঃ

১। আমাশয়েঃ

১০ গ্রাম শুকনো মুলা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিন। সারাদিন এটি ৪ থেকে পাঁচ বার খান দেখবেন আমাশয় ভাল হয়ে যাবে।

২। মেয়েদের কষ্টরজেঃ

এক থেকে দেড় গ্রাম মুলার বীজচূর্ণ পানির সাথে সকালে এবং বিকেলে কিছু খাবার পরে খেতে হবে।

৩। ছুলি রোগেঃ
৫ থেকে ৭ গ্রাম মুলা বীজ পানিতে বেটে নিন তারপর চন্দনের মত সারা গায়ে লাগান।


 ঔষধি গাছ তুলসি

ঔষধি গাছ তুলসি

6.তুলসি গাছ, Sacred or Holy Basil, Ocimum tenuiflorum.



বাংলা নামঃ তুলসি,
বৈজ্ঞানিক নামঃ Ocimum tenuiflorum L. - holy basil
সমনামঃ Ocimum sanctum L.
ইংরেজি নামঃ Sacred Basil, Holy Basil.
আদিবাসি নামঃ তুলসি (Rakhaing), তুলসি (Tripura), Nung Na (Marma), Nung Gri (Marma), Tulosi (Tanchangya), Ramal (Tanchangya), Mida phular gaas (Tripura), তুলসি ফাং (Garo)
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগ/রাজ্যঃ Plantae - Plants
উপরাজ্যঃ Tracheobionta - Vascular plants
অধিবিভাগঃ Spermatophyta - Seed plants
বিভাগঃ Magnoliophyta - Flowering plants
শ্রেণীঃ Magnoliopsida - Dicotyledons
উপশ্রেণিঃ Asteridae  
বর্গঃ Lamiales
পরিবারঃ Lamiaceae - Mint family
গণঃ Ocimum L. - basil
প্রজাতিঃ Ocimum tenuiflorum L. - holy basil
পরিচিতিঃ তুলসী একটি সুগন্ধি বীরুত্‍ জাতীয় উদ্ভিদ যার সাবেক বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ছিলো পবিত্র স্থান হাজার হাজার বছর ধরে সাধারণত কৃষ্ণ ও রাধা তুলসী এই দুই প্রকারে প্রাপ্ত তুলসী হিন্দু গৃহে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে যেহেতু এর পিছনে রয়েছে ধর্মীয়, পরিবেশগত ও বৈজ্ঞানিক কারণ
ধর্মীয় কারণঃ ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে তুলসীকে সীতাস্বরূপা, স্কন্দপুরাণে লক্ষীস্বরূপা, চর্কসংহিতায় বিষ্ণুর ন্যায় ভুমি, পরিবেশ ও আমাদের রক্ষাকারী বলে বিষ্ণুপ্রিয়া, ঋকবেদে কল্যাণী বলা হয়েছে স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু তুলসী দেবীকে পবিত্রা বৃন্দা বলে আখ্যায়িত করে এর সেবা করতে বলেছেন
পরিবেশগত কারণঃ পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তুলসীগাছ একমাত্র উদ্ভিদ যা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ু বিশুদ্ধ রাখে যেখানে অন্য যেকোন গাছ রাত্রিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে তাই রাতের বেলাতে তুলসীতলায় শয়ন করাও ব্যক্তির জন্য উপকারীএছাড়া তুলসীগাছ ভুমি ক্ষয় রোধক এবং তুলসী গাছ লাগালে তা মশা কীটপতঙ্গ ও সাপ থেকে দূরে রাখে
বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণঃ
*তুলসীতেEugenolঅধিক পরিমাণে থাকায় তা Cox-2 Inhibitorরূপে কাজ করে বলে তা ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়
*Hypoglycemic drugs এর সাথে তুলসী খেলে তা টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগে দ্রুত গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দেয়
*তেজস্ক্রিয়তার ফেলে ক্ষতিগ্রস্থ কোষসমুহকে মেরামত করে
*চর্বিজনিত হৃদরোগে এন্টি অক্সিডেন্টের ভুমিকা পালন করে
*তুলসী একশেরও বেশি Phytochemicals (যেমন oleanolic acid, beta caryophyllene ইত্যাদি)বহন করে বলে ক্যান্সার চিকিত্‍সায় ব্যবহৃত হয়
*তুলসীর অ্যালকোহলিক নির্যাস Immune system এর রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে
*তুলসী স্নায়ুটনিক ও স্মৃতিবর্ধক
*শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্নরোগ যেমন ব্রঙ্কাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ,হাঁপানি প্রভৃতি রোগের নিরাময়ক
*সর্দি, কাশি, জ্বর, বমি, ডায়ারিয়া, কলেরা, কিডনির পাথর, মুখের আলসারসহ চোখের বিভিন্ন রোগে ইহা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
*দাঁতের রোগে উপশমকারী বলে টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়